সারাদেশ

আলফাডাঙ্গায় ৭৩ স্কুলের ৫৫ টিতেই নেই প্রধান শিক্ষক, ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষা কার্যক্রম চরম

আলফাডাঙ্গা , ফরিদপুর প্রতিনিধি:
ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থায় এখন চরম সংকট। ৭৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৫৫টিতেই নেই কোনো স্থায়ী প্রধান শিক্ষক। এতে প্রশাসনিক কার্যক্রম ও পাঠদান উভয়ই মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। শিক্ষক সংকটের কারণে সহকারী শিক্ষকদের ওপর কাজের অতিরিক্ত চাপ পড়েছে।

 

 

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, আলফাডাঙ্গায় মোট ৭৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এর মধ্যে মাত্র ১৮টিতে প্রধান শিক্ষক আছেন। বাকি ৫৫টি পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য। এর মধ্যে ২৯ জন সহকারী শিক্ষককে ‘চলতি দায়িত্ব’ এবং ২৬ জনকে ‘ভারপ্রাপ্ত’ হিসেবে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনিক কার্যক্রম ও পাঠদান একসঙ্গে সামলাতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন এই শিক্ষকরা। প্রধান শিক্ষক পদে স্থায়ী নিয়োগ বা পদোন্নতি না হওয়ায় এমন সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া, জাতীয়করণ হওয়া কিছু বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদ নিয়ে উচ্চ আদালতে মামলা চলায়ও এই সংকট আরও বেড়েছে।

 

 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষক জানান, প্রধান শিক্ষক না থাকায় বিদ্যালয়ের দাপ্তরিক কাজ সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়েছে। একজন শিক্ষককে একইসঙ্গে ক্লাস নেওয়া এবং প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে, যা পাঠদানের মানকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। এতে শিক্ষার্থীরাও মানসম্মত শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

 

দিগনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জেবা পারভীন বলেন, ‘আমাকে দাপ্তরিক কাজের পাশাপাশি প্রতিদিন ক্লাসও নিতে হচ্ছে। একটি কাজ করতে গেলে অন্যটি জমে যায়। এতে চরম চাপের মধ্যে কাজ করতে হচ্ছে।’ আলফাডাঙ্গা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জেসমিন আরা সুলতানা জানান, তার বিদ্যালয়ে প্রায় ৬৬৮ জন শিক্ষার্থী আছে। তিনি একই সঙ্গে শিক্ষকতা ও প্রশাসনিক কাজের দায়িত্ব পালন করছেন। এতে দুই দিকেই সমস্যা হচ্ছে।

 

অভিভাবকদের পক্ষ থেকে জরুরি ভিত্তিতে প্রধান শিক্ষক নিয়োগের দাবি জানানো হয়েছে। তারা বলছেন, সুষ্ঠ শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম নিশ্চিত করতে এটি অপরিহার্য।

 

এ প্রসঙ্গে আলফাডাঙ্গা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘২০১৭ সাল থেকে নিয়োগ ও পদোন্নতি বন্ধ থাকায় এই সংকট তৈরি হয়েছে। আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রধান শিক্ষক নিয়োগের জন্য তালিকা পাঠিয়েছি। আশা করছি, শিগগিরই সমস্যার সমাধান হবে এবং শূন্য পদগুলো পূরণ করা হবে। তবে মামলার জটিলতার কারণে নিয়োগ প্রক্রিয়া কিছুটা বিলম্বিত হতে পারে।’

Related Articles

Back to top button