থানচিতে ভিডব্লিউবি–ভিজিডি সঞ্চয় ফেরত না পেয়ে মানবেতর জীবন
দুস্থ নারী পরিবারের নীরব হতাশা

নিজস্ব প্রতিনিধি,থানচি,বান্দরবান :
বান্দরবানের থানচি উপজেলার চার ইউনিয়নের অন্তত ১ হাজার ৬৭৪টি দুস্থ নারী পরিবার ভিডব্লিউবি ও ভিজিডি কর্মসূচির সুরক্ষা সঞ্চয় আমানতের টাকা ফেরত না পেয়ে চরম হতাশা ও মানবেতর জীবনযাপন করছে। এক বছরের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও উপকারভোগীরা তাদের জমাকৃত টাকা পাননি বলে অভিযোগ রয়েছে।
উপকারভোগীদের অভিযোগ, সরকারি নীতিমালা উপেক্ষা করে মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা ও কয়েকজন ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের যোগসাজশে ‘হস্তচালিত’ পদ্ধতিতে সঞ্চয়ের টাকা ব্যবস্থাপনা করা হয়। পরিবহন খরচের নামে অতিরিক্ত ৫০ টাকা আদায়ের অভিযোগও উঠেছে।
উপজেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চার ইউনিয়নে ভিজিডি–ভিডব্লিউবি কর্মসূচির আওতায় মাসিক ৩০ কেজি করে চাল বিতরণ করা হয় এবং সুরক্ষা সঞ্চয় হিসেবে মাসে ২২০ টাকা নেওয়া হয়। তবে এসব অর্থ সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী কোনো অনুমোদিত ব্যাংক হিসাবে জমা রাখা হয়নি।
বলিপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জিয়াঅং মারমা দাবি করেন, সংগৃহীত সঞ্চয়ের টাকা এমরান হোসেন নামে এক ব্যক্তির কাছে হস্তান্তর করা হয়েছিল। এমরান হোসেনের মৃত্যুর পর সঞ্চয়ের টাকা ফেরত দেওয়া নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, উপকারভোগীরা জানান—সঞ্চয়ের টাকা ফেরত পেলে হাঁস-মুরগি পালনসহ জীবিকা উন্নয়নের পরিকল্পনা ছিল, যা এখন অনিশ্চয়তায় পড়েছে।
এ বিষয়ে মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা আয়েশা আক্তার জানান, সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে এবং শিগগিরই টাকা ফেরত দেওয়ার চেষ্টা চলছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল-ফয়সাল বলেন, আগামী ১ জানুয়ারি ২০২৬ সালের মধ্যে দুস্থ নারী পরিবারের সঞ্চয় আমানত ফেরত দেওয়া হবে।
সচেতন মহলের মতে, দ্রুত সঞ্চয় ফেরত ও অনিয়মের তদন্ত না হলে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির প্রতি মানুষের আস্থা নষ্ট হবে।




