পার্বত্য অঞ্চলবান্দরবানসারাদেশ

ডিজিটাল সহিংসতা প্রতিরোধে বান্দরবানে পথ নাটক সহ নানান অনুষ্ঠান

স্টাফ রিপোর্টার,  বান্দরবান :

 “End digital violence against all women and girls Join the UNITE campaign to stop digital abuse” কে সামনে রেখে সোচ্চার প্রকল্পের আওতায় সেভ দ্য চিলড্রেন বাংলাদেশ-এর সহযোগিতায় বলিপাড়া নারী কল্যাণ সমিতি (বিএনকেএস) বান্দরবানে ৩০ নভেম্বর রবিবার সকালে গুরুত্ববহ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

বিএনকেএস এর এইচআর ও অ্যাডমিন ম্যানেজার
সাইন সাইন এ মারমা সঞ্চালনায়, উপ-পরিচালক,
উবানু মারমা স্বাগত বক্তব্য রাখেন।

উবানু মারমা বক্তব্যে বলেন,ডিজিটাল সহিংসতা একটি উদীয়মান সংকট। কমিউনিটির মেয়েদের সঙ্গে কাজ করতে গিয়ে আমরা দেখেছি- ছবি অপব্যবহার, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও ব্ল্যাকমেইলিংয়ের ঘটনা বেড়েছে। তাই এ বিষয়ে সচেতনতা গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি।

বিএনকেএস সভানেত্রী নেমকিম বম সভাপতিত্বে জেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর উপ-পরিচালক সুপন চাকমা, প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

বিশেষ অতিথি ছিলেন অ্যাডভোকেট সারা সুদীপা উইনুস, ইউপি সদস্য অংসাহ্রা মারমা ও নারী সদস্যা পুষ্পীতা চাকমা। এ ছাড়া নারী যোগাযোগ কেন্দ্রের সদস্য, বিএনকে এস নির্বাহী কমিটির সদস্য, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, তরুণ-তরুণীসহ অসংখ্য গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গরা স্বতস্ফুর্ত অংশগ্রহণ করেন।

এ সময় বিএনকেএস- উপ পরিচালক উবানু মারমা, প্রোগ্রাম ম্যানেজার ক্যবা থোয়াই, প্রকল্পের ফোকাল ভাননুনসিয়াম বম, এইচআর ও অ্যাডমিন ম্যানেজার সাইন সাইন এ মারমা, প্রমুখ।

ইউপি মেম্বার অংসাহ্লা মারমা বক্তব্যে বলেন, গ্রামাঞ্চলের কিশোরীরা দিনে দিনে ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহার করছে, কিন্তু নিরাপত্তা সম্পর্কে তাদের জ্ঞান অপ্রতুল। পরিবার ও বিদ্যালয় উভয় ক্ষেত্রেই এই বিষয়ে আলোচনা জরুরি। আজকের এই আয়োজন আমাদের সচেতন হতে সহায়তা করেছে।”

ইউপি নারী সদস্যা পুষ্পীতা চাকমা বলেন, “অনলাইন হয়রানি মেয়েদের মানসিকভাবে ভীষণ ক্ষতিগ্রস্ত করে। অনেকেই পড়াশোনা বন্ধ করে দেয়, সামাজিক সম্পর্ক থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। তাই প্রযুক্তিগত জ্ঞান ছাড়াও মানসিক সহায়তা ও পারিবারিক সমর্থন অত্যন্ত প্রয়োজন। BNKS এই ক্ষেত্রে যে উদ্যোগ নিয়েছে- তা অত্যন্ত প্রশংসনীয়।”

অ্যাডভোকেট সারা সুদীপা উইনুস বললেন, ‘ডিজিটাল হয়রানির বহু ঘটনা লজ্জা বা ভয় থেকে প্রকাশ পায় না। অথচ আইন অনুযায়ী এটি দণ্ডনীয় অপরাধ। নারীদের অবশ্যই জানতে হবে অভিযোগ দেওয়ার স্থান ও প্রক্রিয়া। কমিউনিটি পর্যায়ে আইনি সহায়তা আরও সহজলভ্য করতে হবে। BNKS-এর এই উদ্যোগ সময়োপযোগী।”

প্রধান অতিথি সুপন চাকমা বলেন, “ডিজিটাল সহিংসতা নারীর নিরাপত্তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। পাহাড়ি এলাকার নারীরা প্রযুক্তিতে দক্ষ হলেও নিরাপত্তা বিষয়ে এখনও পিছিয়ে আছে। BNKS সচেতনতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। সরকারও সাইবার অপরাধ দমনে পদক্ষেপ জোরদার করছে এবং নারীদের সামনে এগিয়ে আসার আহ্বান জানাচ্ছে।”

সভাপতি নেমকিম বম সমাপনী বক্তব্যে বলেন, “নারীর প্রতি যেকোনো সহিংসতা মানবাধিকার লঙ্ঘন। পাহাড়ি অঞ্চলে নারীর ডিজিটাল নিরাপত্তা ও অধিকার রক্ষায় BNKS অঙ্গীকারবদ্ধ। আমরা চাই প্রতিটি নারী-কন্যা নিরাপদভাবে অনলাইন ব্যবহার করতে শিখুক।” ধন্যবাদ জ্ঞাপনের মাধ্যমে তিনি আলোচনা সভা সমাপ্ত ঘোষণা করেন।

একই দিনের বিকালে থোয়াইগ্য পাড়ায় ডিজিটাল সহিংসতা প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে একটি পথনাটকের আয়োজন করে বিএনকেএস। গ্রামের নারী-পুরুষ, যুবক-যুবতী, কিশোর-কিশোরীসহ বিভিন্ন বয়সের মানুষ নাটকটি উপভোগ করেন। নাটকে তুলে ধরা হয়- অনলাইনে ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষার গুরুত্ব, ডিজিটাল হয়রানির শিকার হলে করণীয়, নিরাপদ অনলাইন ব্যবহারের নিয়ম ও পরিবার ও কমিউনিটির দায়িত্ব।

গ্রামবাসীরা জানান, নাটকটি তাদের বাস্তব জীবনের ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন করেছে। অনেকেই মত দেন- “এ ধরনের নাটক আমাদের নিজেদের এবং পরিবারের সদস্যদের ডিজিটাল নিরাপত্তা সম্পর্কে ভাবতে শেখায়।”

আলোচনা সভা, মতবিনিময় ও পথনাটক- তিনটি অংশ মিলিয়ে বিএনকেএস-এর এ আয়োজন পাহাড়ি অঞ্চলে ডিজিটাল সহিংসতা প্রতিরোধে একটি শক্তিশালী জনসচেতনতা সৃষ্টি করেছে।

নারী ও কিশোরীদের সাইবার নিরাপত্তা ও ডিজিটাল অধিকার রক্ষায় কমিউনিটির সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা আহবান।

Related Articles

Back to top button