১৫ মাস পর নতুন ভাবে চালু হলো কালুরঘাট সেতু

চট্টগ্রাম:
অবশেষে পরীক্ষামূলক ভাবে শতবর্ষী কালুরঘাট সেতুতে যান চলাচল শুরু হয়েছে । রেলসহ অন্য গাড়ি চললেও চলবেনা ভারী বাস-ট্রাক।ওয়াকওয়ে দিয়ে হেঁটে পার হচ্ছে মানুষ।
২৭ অক্টোবর ২০২৪ , রবিবার থেকে। দীর্ঘ প্রায় ১৫ মাস ধরে সংষ্কার কাজ শেষে এটি যানবাহন চলাচল ও সেতুর ওপর দিয়ে ওয়াক ওয়ে দিয়ে পায়ে হেঁটে সেতু পারাপারের ব্যবস্থা রাখায় দক্ষিণ চট্টগ্রামের উল্লেখ যোগ্য অংশের মানুষের দৈনিক দুর্ভোগের কিছুটা অবসান হয়েছে। সাধারনত: প্রায় শতবর্ষী পুরনো এই কালুরঘাট সেতু দিয়ে দক্ষিণ চট্টগ্রামের বোয়ালখালী ও পটিয়াসহ অন্য অংশের মানুষ চট্টগ্রাম শহরে আসা-যাওয়া করেন।
রবিবার (২৭ অক্টোবর) সকাল ১০টা থেকে আনুষ্ঠানিক ভাবে সেতুর এপাড়-ওপাড় দিয়ে যান চলাচল শুরু হয়। সেতুতে প্রথমবারের মতো ওয়াকওয়ে তৈরি হওয়ায় সবার মাঝে কৌতুহল বেড়েছে। সেতুতে যান চলাচলে আপাতত কোনো টোল রাখছে না রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। বুয়েটের পরামর্শ অনুযায়ী বাস-ট্রাকের মত ভারী যানবাহন ছাড়া সর্বোচ্চ ৮ ফুট উচ্চতার সব ধরনের যানবাহন চলাচল করতে পারবে। তবে কিছুদিনের মধ্যে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ টোল আদায়ের জন্য দরপত্র আহবান করবে বলে জানিয়েছেন রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক মো. নাজমুল ইসলাম।
রেলওয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, বুয়েটের বিশেষজ্ঞ দলের সদস্যরা সংস্কার কাজ পরিদর্শনকালে কিছু পর্যবেক্ষণের কথা জানিয়েছিলেন। এর মধ্যে, রাতে সেতুতে যান চলাচল যেন বিঘœ না ঘটে সেজন্য বিভিন্ন পয়েন্টে লাইট রিফ্লেকটিং রং ব্যবহার, পর্যাপ্ত বাতির ব্যবস্থা করার পরামর্শ দিয়েছিলেন। সেসব কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে।
বৃটিশ শাসনামলে ১৯৩০ সালে ‘ব্রæনিক এন্ড কোম্পানী, ব্রীজ বিল্ডার্স হাওড়া’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান কর্নফুলী নদীর ওপর প্রথম এই কালুরঘাটে সেতুটি তৈরী করে। প্রথমে শুধুমাত্র রেল চলাচলের জন্য তৈরী করা হলেও পরবর্তীতে এটির ওপর দিয়ে অন্য যানবাহন চলাচলের জন্য উপযুক্ত করা হয়। এরমধ্যে সেতুটি অনেক পুরনো ও রেলসহ অন্য যানবাহন চলাচলের জন্য ঝুঁকিপূর্ন হওয়ায় এ সেতুর সংস্কার কাজ শুরু হয় ২০২৩ সালের ১ আগস্ট। প্রায় ৪৩ কোটি টাকা ব্যয়ে সেতুর সংস্কারকাজ শেষ হয়েছে সম্প্রতি। গত ২৪ সেপ্টেম্বর কালুরঘাট সেতুর সংস্কার কাজ পরিদর্শন করেন বুয়েটের তিন সদস্যের বিশেষজ্ঞ দল। তারা সংস্কার কাজের অগ্রগতি ও গুণগত মান পরীক্ষা শেষে দ্রæততম সময়ের মধ্যে যান চলাচলের জন্য সেতু চালু করে দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন।
মূলত: দোহাজারী-কক্সবাজার নতুন রেলপথ নির্মাণকাজ শেষ পর্যায়ে আসার পরও নতুন সেতু নির্মাণ না হওয়ায় পুরাতন কালুরঘাট সেতু সংস্কারের উদ্যোগ নেয় রেলওয়ে। ১৯৩১ সালে ব্রিটিশ আমলে আসাম বেঙ্গল রেলওয়ে নির্মিত কালুরঘাট সেতুটি বহু আগেই মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে যায়। বুয়েটের পরামর্শে সেতুটি সংস্কার করা হয়। ভারী ও দ্রæতগতির ট্রেন চলাচল করাসহ সেতুটির ওপর দিয়ে মানুষ যাতে হেঁটে পার হতে পারে সেজন্য ওয়াকওয়ে এবং রেলপথের উপর সড়ক কার্পেটিং এ বিশেষ নকশা প্রণয়ন করে রেলওয়ে। নতুন পদ্ধতি বাস্তবায়নের কারণে একমুখী যানবাহন চলাচলে বিঘœ ঘটবে না বলে জানিয়েছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।
কালুরঘাট সেতু দিয়ে বর্তমানে কক্সবাজার পর্যন্ত দৈনিক তিন জোড়া যাত্রীবাহী ট্রেন ও দোহাজারী পাওয়ার প্ল্যান্টের জ্বালানীবাহী ট্রেন চলাচল করে। তবে কালুরঘাট সেতু সংস্কার ও কর্ণফুলী নদীতে নতুন সেতু নির্মাণের পর এই রুটে দৈনিক ২৩ জোড়া ট্রেন চলাচলের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। আগামী জানুয়ারিতে চালু হওয়া রেলওয়ের ওয়ার্কিং টাইম টেবিলে কক্সবাজার পর্যন্ত আপাতত আরও কয়েকটি ট্রেন যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে রেলওয়ের।