
নিজস্ব প্রতিনিধি, মানিকগঞ্জ :
আজ ২২ নভেম্বর। ৫ দশক পেরিয়েও মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার তেরশ্রীর ভয়াবহ হত্যাযজ্ঞের স্মৃতি কাঁপিয়ে তোলে এলাকাবাসীকে। ভোরবেলায় তেরশ্রী এলাকার শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে মুক্তিযোদ্ধা, জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের প্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী সহ সর্বস্তরের জনগণ ফুল দিয়ে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের মাধ্যমে তেরশ্রী গণহত্যা দিবস পালন করা হয়েছে।
শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে স্মৃতিচারণ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। বক্তারা জানান, ১৯৭১ সালের এই দিনে তৎকালীন জমিদার সিদ্ধেশ্বর রায় প্রসাদ চৌধুরী, তেরশ্রী কলেজের অধ্যক্ষ আতিয়ার রহমান সহ মোট ৪৩ জন নিরীহ স্বাধীনতাকামী মানুষকে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী আগুনে পুড়িয়ে ও গুলি করে হত্যা করে। শুধু হত্যাকাণ্ডই নয়, পুরো তেরশ্রী গ্রামেও অগ্নিসংযোগ করে ধ্বংসযজ্ঞ চালায়।পাঁচ দশক পেরিয়েও সেই রক্তঝরা দিনের স্মৃতি আজও এলাকাবাসীকে শিউরে তোলে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঘিওর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাশিতা তুল ইসলাম। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানা।
এ সময় বক্তব্য দেন জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের আহবায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মান্নান, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. তানভীর ইসলাম, ঘিওর থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ কোহিনূর মিয়া, উপজেলা প্রকৌশলী মো. শাহিনুজ্জামান, উপজেলা বিএনপির সভাপতি মীর মানিকুজ্জামান মানিক, সাধারণ সম্পাদক কাজী ওয়াজেদ আলী মিস্টার, পয়লা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মোশাররফ হোসেন মানিক সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ ও বীর মুক্তিযোদ্ধারা।
বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মান্নান বলেন, ভাষা আন্দোলন থেকে মহান মুক্তিযুদ্ধ—দেশের প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলনে তেরশ্রী গ্রামের অবদান অনস্বীকার্য। শহীদদের স্মৃতিতে নির্মিত এই স্মৃতিস্তম্ভ প্রতিদিনই অসংখ্য মানুষ দেখতে আসেন।
বক্তারা শহীদদের স্মরণে গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, তেরশ্রী গণহত্যার সঠিক তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করা জাতির কাছে এখনও অপূর্ণ দাবি হয়ে আছে।
অনুষ্ঠান শেষে শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। স্বাধীনতার জন্য আত্মত্যাগকারী সকল শহীদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানান ।




