Breakingখাগড়াছড়িপার্বত্য অঞ্চল

বৈসাবি নিয়ে খাগড়াছড়িতে নিরাপত্তা জোরদারে সমন্বয় সভা

স্টাফ রিপোর্টার,খাগড়াছড়ি :
বাংলা নববর্ষ ও পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর প্রধান সামাজিক উৎসব বৈসাবিকে ঘিরে খাগড়াছড়িতে নেওয়া হয়েছে ব্যাপক নিরাপত্তা প্রস্তুতি। উৎসবকে আনন্দঘন, শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্ন করতে সেনাবাহিনীর উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয়েছে গুরুত্বপূর্ণ সমন্বয় সভা, যেখানে সকল পক্ষকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

 

 

৫ এপ্রিল ২০২৬; রোববার দুপুরে সেনাবাহিনীর ২০৩ পদাতিক ব্রিগেডের খাগড়াছড়ি সদর রিজিয়ন সদর দপ্তরের কনফারেন্স রুমে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কেএম ওবায়দুল হক।

 

সভায় ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কে. এম ওবায়দুল হক বলেন, বৈসাবি পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর প্রাণের উৎসব, যা সম্প্রীতি ও ঐক্যের এক অনন্য প্রতীক। এ উৎসবকে ঘিরে যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সেজন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি স্থানীয় জনগণ, সংগঠন ও স্বেচ্ছাসেবীদের সম্মিলিতভাবে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের ওপর জোর দেন তিনি। পাড়া-মহল্লায় আয়োজিত বিভিন্ন মেলা ও অনুষ্ঠান সুশৃঙ্খলভাবে শেষ করার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন।

 

সভায় বৈসাবিকে ঘিরে জেলার বিভিন্ন এলাকায় আয়োজিত বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, মেলা, র‍্যালি ও সামাজিক কর্মসূচির বিস্তারিত চিত্র তুলে ধরা হয়। এসব আয়োজন নির্বিঘ্নভাবে সম্পন্ন করতে সার্বিক নিরাপত্তা পরিকল্পনা, নজরদারি বৃদ্ধি এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সমন্বয় জোরদারের বিষয়েও আলোচনা হয়।

 

 

এ সময় গত কয়েক বছরের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে জানানো হয়, বৈসাবিকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন সময়ে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটিয়ে উৎসবের পরিবেশ নষ্ট করার অপচেষ্টা হয়েছে। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব, অপপ্রচার ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি এবং উসকানি দেওয়ার প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে, যা সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে।

 

সভায় এসব ঝুঁকি মোকাবিলায় সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়। গুজব বা যাচাইবিহীন তথ্য শেয়ার না করা, সন্দেহজনক কিছু নজরে এলে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করা এবং পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে সম্প্রীতি বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

 

সভায় পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধি, ক্লাব নেতৃবৃন্দ, পুলিশ সুপারসহ প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। তারা বৈসাবিকে কেন্দ্র করে একটি নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ ও আনন্দঘন পরিবেশ নিশ্চিত করতে সম্মিলিতভাবে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

 

সবশেষে ব্রিগেড কমান্ডার খাগড়াছড়িকে শান্তি ও সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে গড়ে তুলতে সবার সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং উৎসবকে ঘিরে সকলের মধ্যে ভ্রাতৃত্ববোধ ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ আরও দৃঢ় হবে,এমন আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

Related Articles

Back to top button