খাগড়াছড়িপার্বত্য অঞ্চলসারাদেশ

বাংলাদেশ ত্রিপুরা কল্যাণ সংসদের পক্ষে অনাথ আশ্রমে স্কুল ব্যাগ বিতরণ

মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত

স্টাফ রিপোর্টার,খাগড়াছড়ি:
মানবিকতা, সহমর্মিতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার এক অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে বাংলাদেশ ত্রিপুরা কল্যাণ সংসদ। সংগঠনটির মানবিক কর্মসূচির অংশ হিসেবে খাগড়াছড়ির চম্পাঘাট অনাথ আশ্রম পরিদর্শন ও অনাথ–এতিম শিক্ষার্থীদের মাঝে ব্যক্তিগত উদ্যোগে স্কুল ব্যাগ বিতরণ করা হয়েছে।

 

 

এই মানবিক কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে অনাথ ও এতিম শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন স্কুল ব্যাগ তুলে দেন বাংলাদেশ ত্রিপুরা কল্যাণ সংসদের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শুভ্রদেব ত্রিপুরা সাইমন।

 

 

অনাথ আশ্রম পরিদর্শনকালে তিনি আশ্রমের শিশুদের খোঁজখবর নেন, তাদের পড়াশোনা, আবাসন ও দৈনন্দিন জীবনযাত্রা সম্পর্কে বিস্তারিত জানেন এবং শিশুদের সঙ্গে সময় কাটান। শিশুদের মুখে হাসি ফোটাতে ও পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ বাড়াতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান আয়োজকরা।

 

 

স্কুল ব্যাগ বিতরণকালে অ্যাডভোকেট শুভ্রদেব ত্রিপুরা সাইমন বলেন,“এই শিশুরাই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। তাদের শিক্ষা ও মানসিক বিকাশ নিশ্চিত করা আমাদের সকলের নৈতিক দায়িত্ব। সমাজের প্রতিটি মানুষ যদি নিজ নিজ অবস্থান থেকে একটু সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয়, তাহলে অনাথ ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুরাও সামনে এগিয়ে যেতে পারবে।”

 

তিনি আরও বলেন, অনাথ শিশুদের জন্য শিক্ষা সবচেয়ে বড় শক্তি। নতুন স্কুল ব্যাগ হাতে পেয়ে শিশুদের চোখে যে আনন্দ ও স্বপ্নের ঝিলিক দেখা যাচ্ছে, সেটিই এই আয়োজনের সার্থকতা। ভবিষ্যতেও তিনি অসহায়, অনাথ ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের পাশে থাকার আশ্বাস দেন এবং তাদের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের জন্য আন্তরিক শুভকামনা জানান।

 

 

এসময় আশ্রমের শিশুদের মাঝে আনন্দঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। নতুন স্কুল ব্যাগ পেয়ে শিশুদের উচ্ছ্বাস ও হাসি উপস্থিত সকলকে আবেগাপ্লুত করে তোলে।

 

চম্পাঘাট অনাথ আশ্রম কর্তৃপক্ষ এই মানবিক সহায়তার জন্য গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তারা বলেন,
“এ ধরনের মানবিক উদ্যোগ শুধু আমাদের শিশুদের জন্য নয়, বরং পুরো সমাজের জন্য একটি ইতিবাচক বার্তা বহন করে। এতে অন্যরাও অনুপ্রাণিত হয় মানবিক কাজে এগিয়ে আসতে।”

 

আশ্রম কর্তৃপক্ষ আরও জানান, বাংলাদেশ ত্রিপুরা কল্যাণ সংসদ ও অ্যাডভোকেট শুভ্রদেব ত্রিপুরা সাইমনের এই উদ্যোগ অনাথ শিশুদের শিক্ষা যাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

 

এই মানবিক কর্মসূচি বাংলাদেশের ত্রিপুরা সমাজসহ সার্বিক সমাজে মানবতা, দায়িত্ববোধ ও সামাজিক সচেতনতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সচেতন মহল মনে করছেন, এমন উদ্যোগ সমাজে সহমর্মিতা ও মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

Related Articles

Back to top button