
স্টাফ রিপোর্টার, খাগড়াছড়ি:
পহেলা ফাল্গুণ আর বিশ্ব ভালোবাসা দিবস,দুই উৎসব একসাথে। বসন্তের রঙ আর ভালোবাসার আবেশে রাঙা হয়ে উঠেছে পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ি। ছুটির দিনে উৎসবের আমেজে প্রাণ ফিরে পেয়েছে পাহাড়ের পর্যটন কেন্দ্রগুলো। তবে অন্যান্য বছরের তুলনায় এবারের বসন্ত উদযাপনে ছিল ভিন্ন এক চিত্র,কম ছিল বাইরের পর্যটক, বেশি ছিল স্থানীয়দের উপস্থিতি।
বসন্তের প্রথম সকালেই পাহাড় যেন পরেছে নতুন সাজ। চারদিকে পলাশ-শিমুলের আগুনরাঙা আভা, সবুজের ভাঁজে ভাঁজে লাল ফুলের উচ্ছ্বাস। সরিষা রঙের শাড়ি আর পাঞ্জাবিতে তরুণ-তরুণীদের প্রাণবন্ত উপস্থিতি যেন বসন্তকে আরও রঙিন করে তুলেছে। তার সঙ্গে ভালোবাসা দিবসের আবেগ,সব মিলিয়ে খাগড়াছড়ি যেন এক প্রাণের মেলায় পরিণত হয়।
তবে এবারের পহেলা ফাল্গুণ ছিল অনেকটাই ঘরোয়া আয়োজনে সীমাবদ্ধ। জেলায় বড় পরিসরে বসন্তবরণ অনুষ্ঠান না হলেও ছোট ছোট সাংস্কৃতিক আয়োজনে ছিল উৎসবের ছোঁয়া। বিভিন্ন সংগঠনের উদ্যোগে গান, নৃত্য আর আবৃত্তিতে মুখর হয়ে ওঠে পাহাড়ি জনপদ। তরুণদের কণ্ঠে বসন্তের গান, শিশুদের নৃত্যে রঙিন হয়ে ওঠে মঞ্চ।
সকালে পর্যটকদের উপস্থিতি কিছুটা কম থাকলেও বিকেলের পর থেকেই জমে ওঠে আলুটিলা পর্যটন কেন্দ্র, জেলা পরিষদ পার্কসহ বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান। শতশত মানুষ ভিড় করেন প্রকৃতির টানে। তবে এবার বাইরের পর্যটকের চেয়ে স্থানীয় পর্যটকের সংখ্যাই ছিল বেশি। কেউ পরিবার নিয়ে, কেউ বন্ধুদের সঙ্গে, আবার কেউ প্রিয় মানুষটির হাত ধরে উপভোগ করেছেন বসন্তের রঙিন মুহূর্ত।
ঢাকা থেকে আসা এক পর্যটক বলেন, “বসন্ত আর ভ্যালেন্টাইন একসাথে উদযাপন করতে পাহাড়ের চেয়ে সুন্দর জায়গা আর নেই। পরিবেশটা অসাধারণ।”
উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা কান্তি বিকাশ ত্রিপুরা জানান, “আজকে বাইরের পর্যটকের সংখ্যা তুলনামূলক কম, স্থানীয় পর্যটক বেশি। জেলা শহর থেকে কাছে হওয়ায় স্থানীয়রা পরিবার-পরিজন নিয়ে বেশি আসছে।”
উৎসব ঘিরে পর্যটন এলাকাগুলোতে বাড়ানো হয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা। জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানায়, পর্যটকদের নিরাপত্তা ও স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করতে নেওয়া হয়েছে বিশেষ উদ্যোগ।
খাগড়াছড়ির মনোরম প্রকৃতি আর বসন্তের আবেশ যেন একাকার হয়ে গেছে ভালোবাসার এই দিনে। পলাশের আগুনরাঙা ডালে, সরিষা রঙের পোশাকে আর হাসিমাখা মুখে ফুটে উঠেছে এক টুকরো প্রাণের উচ্ছ্বাস। বসন্ত আর ভালোবাসার এই দ্বৈত উৎসবে পাহাড় হয়ে উঠেছে রঙিন আনন্দভূমি।
এমন প্রাণচাঞ্চল্য স্থানীয় পর্যটন খাতে নতুন আশার আলো জাগালেও, বড় আয়োজনের অভাব এবারের বসন্তকে দিয়েছে ভিন্ন এক ঘরোয়া আবহ।




