পাহাড়ের তিন গ্রামে হাসি ফিরিয়েছে সুপেয় পানির প্রকল্প

স্টাফ রিপোর্টার, খাগড়াছড়ি:
দীর্ঘদিনের কাঙ্ক্ষিত স্বপ্ন অবশেষে বাস্তব হলো। ঝিরির পানির জন্য পাহাড়ি পথে কষ্ট করে হেঁটে যাওয়া এখন অতীত। খাগড়াছড়ির তিনটি প্রত্যন্ত জনপদ—মিলন কারবারি পাড়া, বেলতলী পাড়া ও বৈরফা ব্রিজ পাড়ায় এখন ঘরের কাছেই মিলছে বিশুদ্ধ পানি।
বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই ) খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শেফালিকা ত্রিপুরা আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন এই সুপেয় পানি সরবরাহ প্রকল্প। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করেছে জেলা পরিষদের অধীনস্থ যা পরিচালিত হচ্ছে করলিয়া প্রকল্পের আওতায়।
১৮৩ পরিবারের জীবনে স্বস্তি:
মিলন কারবারি পাড়া: ৮৪ পরিবার,বেলতলী পাড়া: ৪৭ পরিবার,বৈরফা ব্রিজ পাড়া: ৫২ পরিবার।
এখন থেকে এই ১৮৩টি পরিবার সরাসরি ঘরের পাশে বিশুদ্ধ পানির নিরবচ্ছিন্ন সুবিধা পাচ্ছেন, যা তাদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় এক বিপ্লব আনবে।
স্থানীয় বাসিন্দা চন্ডিদাস ত্রিপুরা আবেগের সঙ্গে জানান, “আগে অনেক দূর থেকে পানি আনতে হতো, অনেক সময় পায়ের নিচে ফোসকা পড়ত। এখন ঘরের পাশেই পাই, খুবই উপকারে আসতেছে।”
সোলার চালিত প্রযুক্তি, টেকসই ভবিষ্যতের ইঙ্গিত:
পানির এই ব্যবস্থা সম্পূর্ণভাবে পরিবেশবান্ধব ও টেকসই। প্রকল্প কর্মকর্তা পরিচিতা খীসা জানান,“করলিয়া প্রকল্পের আওতায় বর্তমানে ৬০টি সাইটে কাজ চলছে। আজকের এই প্রকল্পে বৈদ্যুতিক সোলার পাম্প ব্যবহার করে পানি সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে।”
নারীর কষ্ট কমছে, বাড়ছে সামাজিক স্বস্তি:
এই উদ্যোগ শুধুই পানি সরবরাহ নয়—এটি নারীর পরিশ্রম হ্রাস, শিশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং পাহাড়ি জীবনে উন্নয়নের স্থায়ী ছোঁয়া এনে দিয়েছে।
জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শেফালিকা ত্রিপুরা বলেন,“সুপেয় পানি এখন স্বপ্ন নয়, বাস্তব। আমরা চাই, প্রত্যন্ত অঞ্চলের প্রতিটি পরিবার উন্নয়নের ছোঁয়া পাক। নারীরা যেন আর দূরে যেতে না হয়, সেটিই আমাদের অঙ্গীকার।”
প্রকল্পের পেছনে শক্ত অংশীদারিত্ব:
এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়েছে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (UNDP) এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় (MoCHTA)-এর যৌথ সহযোগিতায় চলমান Ecosystems Restoration and Resilient Development in Chittagong Hill Tracts (ERRD-CHT) প্রকল্পের অংশ হিসেবে।
পাহাড়ের প্রত্যন্ত পাড়ায় ছড়িয়ে পড়ুক এই ‘বিশুদ্ধ জীবনের’ গল্প:এই প্রকল্প যেন এক নতুন ভোরের বার্তা নিয়ে এসেছে পাহাড়ে। বিশুদ্ধ পানি এখন শুধু প্রয়োজন নয়, একটি মানবাধিকার, একটি উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি।“বিশুদ্ধ পানি, সুস্থ জীবন—এবার পাহাড়েও পৌঁছেছে টেকসই উন্নয়নের ছোঁয়া।”