
খাগড়াছড়ি:
খাগড়াছড়ির পানছড়ি সীমান্তে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) দুঃসাহসিক অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ উদ্ধার করেছে। অভিযানের মুখে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে গেলেও পরবর্তীতে সংঘবদ্ধ হয়ে বিজিবি টহলদলকে ঘেরাওয়ের চেষ্টা করে। তবে বিজিবির তাৎক্ষণিক কৌশল, দৃঢ়তা ও পেশাদারিত্বের কাছে তারা পিছু হটতে বাধ্য হয়।
বিজিবি সূত্রে জানা যায়, ১০ এপ্রিল ২০২৬ দিবাগত রাতে পানছড়ি ব্যাটালিয়ন (৩ বিজিবি)-এর দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত দিয়ে সন্ত্রাসী গ্রুপ বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ পাচারের পরিকল্পনা করছে—এমন নির্ভরযোগ্য গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করা হয়। বৌদ্ধমনিপাড়া বিওপির নায়েব সুবেদার মো. শাহ আলমের নেতৃত্বে একটি বিশেষ টহলদল বৌদ্ধমনিপাড়া এলাকার কাঠালতলী যাত্রী ছাউনিতে কৌশলগত অবস্থান নেয়।
রাত আনুমানিক ৮টার দিকে দুইটি মোটরসাইকেলে চারজন সন্দেহভাজন ব্যক্তি সীমান্ত সড়ক দিয়ে অতিক্রম করার সময় বিজিবি সদস্যরা তাদের চ্যালেঞ্জ করলে তারা দ্রুত মোটর সাইকেল ফেলে পাহাড়ের দুর্গম এলাকায় পালিয়ে যায়। পরে তল্লাশি চালিয়ে পরিত্যক্ত অবস্থায় দুইটি মোটরসাইকেল এবং ৭.৬২ মি.মি. এসএমজি’র ১৪০০ রাউন্ড গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধারকৃত মালামাল বিওপিতে নিয়ে ফেরার পথে আনুমানিক ১০০-১১০ জন সশস্ত্র সন্ত্রাসী সদস্য সংঘবদ্ধ হয়ে বিজিবি টহলদলকে ঘেরাওয়ের চেষ্টা চালায়। পরিস্থিতি অত্যন্ত উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠলেও বিজিবি সদস্যরা অসীম সাহস, ধৈর্য ও কৌশলী পদক্ষেপের মাধ্যমে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনেন। এ সময় পানছড়ি ব্যাটালিয়ন সদর থেকে ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক মেজর এস. এম. ইমরুল কায়েসের নেতৃত্বে অতিরিক্ত দুইটি টহলদল দ্রুত ঘটনাস্থলের দিকে অগ্রসর হলে সন্ত্রাসীরা শেষ পর্যন্ত পিছু হটতে বাধ্য হয়।
পানছড়ি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক দৃঢ় কণ্ঠে জানান, সীমান্ত এলাকায় অবৈধ অস্ত্র, গোলাবারুদ ও চোরাচালানের বিরুদ্ধে বিজিবির ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অব্যাহত রয়েছে। সন্ত্রাসী ও চোরাকারবারীদের যেকোনো অপতৎপরতা কঠোর হাতে দমন করা হবে। গোয়েন্দা নজরদারি ও আভিযানিক টহল আরও জোরদার করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান আরও কঠোরভাবে অব্যাহত থাকবে।




