
বরিশাল :
বরিশাল সদর উপজেলার চরমোনাই ইউনিয়নের রাজারচর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্র সাকিব খান হত্যাকাণ্ডের দীর্ঘদিন পলাতক আসামি জাকির মিয়াকে গ্রেফতার করেছে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের সিআইডি ইউনিট।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মামলার তদন্তকালে গ্রেফতারকৃত আইনের সঙ্গে সংঘাতে জড়িত শিশু রমজান হাওলাদার (১৫)–কে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করার সময় জিজ্ঞাসাবাদে সে জানায়, সে ও নিহত সাকিব খান (১৫) পরস্পর সমবয়সী, পাশাপাশি বাড়ির বাসিন্দা ও বন্ধু। ঘটনার দিন ২০২১ সালের ৩ অক্টোবর সন্ধ্যা আনুমানিক সাড়ে ৬টার দিকে রমজান সাকিবকে তার বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায়। পরে তারা রমজানের ভ্যানগাড়িতে এলাকায় ঘোরাফেরা করে, যা স্থানীয়রা প্রত্যক্ষ করে।
এক পর্যায়ে রমজান হাওলাদার সাকিব খানকে কৌশলে চরমোনাই ইউনিয়নের ০৫ নম্বর ওয়ার্ডস্থ রাজারচর গ্রামের জনৈক সোলায়মানের সুপারি বাগান এবং মোঃ আলাউদ্দিনের মালিকানাধীন সুপারি বাগানে (আসামি জাকির মিয়ার বাড়ির পেছনে অবস্থিত) সুপারি পারতে নিয়ে যায়। এ সময় আসামি জাকির মিয়া সেখানে উপস্থিত হয়ে লাঠি দিয়ে সাকিব খানকে এলোপাতাড়ি আঘাত করে হত্যা করে বলে তদন্তে উঠে আসে।
বরিশাল মেট্রো সিআইডি পুলিশের পরিদর্শক মোঃ ফারুক খান জানান, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সরাসরি জড়িত আসামি বরিশাল জেলার রাজারচর গ্রামের মৃত আবুল মিয়ার ছেলে মোঃ জাকির মিয়া (৩৫)। এ ঘটনায় ২০২১ সালের ৫ অক্টোবর কোতয়ালী মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। ঘটনার পর থেকে আসামি দীর্ঘদিন পলাতক ছিল।
তিনি আরও জানান, আসামির বিরুদ্ধে প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্ত, অডিও-ভিডিও ফুটেজ, শিশু আসামির জনসমক্ষে স্বীকারোক্তি মূলক বক্তব্য এবং প্রত্যক্ষ সাক্ষীদের সাক্ষ্য অনুযায়ী হত্যাকাণ্ডে তার সরাসরি সম্পৃক্ততা প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হয়েছে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত ৮ জানুয়ারি ২০২৬, বৃহস্পতিবার, রাজারচর গ্রাম থেকে তাকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
নিহত সাকিব খানের পিতা আনোয়ার খান বলেন, “আমার শিশুপুত্রকে যারা নির্মমভাবে হত্যা করেছে, তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। সুষ্ঠ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিত করা হোক, যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো বাবা-মায়ের কোল শূন্য না হয়।”
এদিকে এলাকাবাসী নৃশংস এ হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, আসামি জামিনে মুক্তি পেলে মামলার তদন্ত ও অন্যান্য জড়িতদের গ্রেফতার ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তারা তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত আসামিকে জেলহাজতে আটক রাখাসহ ঘটনায় জড়িত সকলের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠ তদন্তের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।




