Breakingখাগড়াছড়িপার্বত্য অঞ্চলসারাদেশ

ঠাকুরছড়ায় ত্রিপুরাদের ঐতিহ্যবাহী বলী খেলা

স্টাফ রিপোর্টার, খাগড়াছড়ি :
ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীর প্রাণের উৎসব বৈসুকে কেন্দ্র করে খাগড়াছড়ির ঠাকুরছড়া নতুন বাজার মাঠে বর্ণিল উৎসবের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে ত্রিপুরাদের মাসব্যাপি বৈসু উৎসব । মাসব্যাপি নানান অনুষ্ঠানের মাঝে শেষ দিনে বিশেষ আকর্ষণ হয়ে উঠেছে ঐতিহ্যবাহী বলী খেলা ও সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা। এদিন ঠাকুরছড়ার নতুন বাজার মাঠ জুড়ে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত হয়েছে বলী খেলার জম জমাট আসর। ঐতিহ্যবাহী এই বলী প্রতিযোগিতায় অংশ নেন স্থানীয় বলীরা। পাড়া-পড়শিরা ভিড় করে দেখেন এই শারীরিক ও মানসিক শক্তির প্রতিযোগিতা। ঢাক-ঢোলের তালে প্রতিযোগীদের দৃঢ়তা, সাহস ও কৌশলের প্রদর্শন মুগ্ধ করেছে দর্শকদের।

 

সংস্কৃতির ছোঁয়ায় উৎসবমুখর পরিবেশ বলী খেলার পাশাপাশি সন্ধ্যায় স্থানীয় শিল্পীরা পরিবেশন করেছে ত্রিপুরা ঐতিহ্যবাহী নৃত্য ও গান । ছোট-বড় সব বয়সী মানুষ অংশ নিয়েছে এই আয়োজনে। আয়োজকদের মতে, এই উৎসব শুধু বিনোদনের নয়, সংস্কৃতি সংরক্ষণ ও নতুন প্রজন্মের মধ্যে তা ছড়িয়ে দেওয়ারও একটি মাধ্যম।

 

বলী খেলার প্রতিযোগিতায় অংশ গ্রহণকারীরা নিজেদের কৌশল, শারীরিক সক্ষমতা ও ধৈর্যের পরীক্ষা দেন। প্রতিযোগিতা চলাকালীন ঢোলের তালে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে পুরো উৎসব প্রাঙ্গণ। উপস্থিত দর্শকদের মধ্যে শিশু থেকে শুরু করে বৃদ্ধ সবাই ছিলেন গভীর মনোযোগে। মাঠের চারপাশে বাঁশ দিয়ে তৈরি অস্থায়ী ব্যারিকেড ঘিরে মানুষ দাঁড়িয়ে ও বসে খেলা উপভোগ করেন। বলী খেলা শেষে সন্ধ্যায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় স্থানীয় শিল্পীরা পরিবেশনায় ত্রিপুরা ঐতিহ্যবাহী নৃত্য ও গান অনুষ্ঠিত হয়।

 

স্থানীয় বাসিন্দা ভ্যালেন্টিনা ত্রিপুরা বলেন, “আমাদের ছোটবেলায় এই বলী খেলা ছিল বৈসুর সবচেয়ে বড় আনন্দ। এখনো যেভাবে তরুণরা অংশ নিচ্ছে, তাতে আমরা গর্বিত। এই খেলা আমাদের ঐতিহ্যের অংশ, এটা বাঁচিয়ে রাখতে হবে।”

 

বলী প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হওয়ায় সৃজন চাকমা বলী জানান, “আমি এ বছর ৯ম বারের মতো বলী খেলায় অংশ নিয়েছি। এটা শুধু শারীরিক খেলা নয়, আমাদের আত্মপরিচয়ও। এই খেলায় অংশ নিতে পেরে আমি গর্বিত।”

 

বলী খেলার আয়োজক কমিটির আহবায়ক ননী ব্রত ত্রিপুরা বলেন, “ত্রিপুরাদের বৈসু উৎসব এখন শুধু পারিবারিক বা সম্প্রদায়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, এটা সকল সম্প্রদায়ের মানুষের উৎসব হয়ে উঠেছে। আমরা চেষ্টা করছি নতুন প্রজন্মকে এই ঐতিহ্য ধরে রাখতে উদ্বুদ্ধ করতে।”

 

বৈসু উৎসব শুধু আনন্দের উপলক্ষ নয়, এটি ত্রিপুরা জাতিগোষ্ঠীর সংস্কৃতি, ইতিহাস এবং পরিচয়ের প্রতিচ্ছবি। বলী খেলা ও সাংস্কৃতিক আয়োজন এই উৎসবকে আরও প্রাণবন্ত ও প্রাসঙ্গিক করে তুলেছে। বৈসুর এমন প্রাণবন্ত আয়োজন ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য হয়ে উঠুক একটি সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকার।

 

সমাপনী অনুষ্ঠানে অনুষ্ঠানের আহ্বায়ক ননীব্রত ত্রিপুরা’র সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জিরুনা ত্রিপুরা বলেন, ত্রিপুরা জাতির সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে ধরে রাখার জন্য এই রকম অনুষ্ঠানের গুরুত্ব অপরিসীম। ত্রিপুরা জাতির ইতিহাস,ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি অত্যন্ত সমৃদ্ধশালী। বৈসু উৎসব শুধু আনন্দের উপলক্ষ নয়, এটি ত্রিপুরা জাতি গোষ্ঠীর সংস্কৃতি, ইতিহাস এবং পরিচয়ের প্রতিচ্ছবি। বলী খেলা ও সাংস্কৃতিক আয়োজন এই উৎসবকে আরও প্রাণবন্ত ও প্রাসঙ্গিক করে তুলেছে। বৈসুর এমন প্রাণবন্ত আয়োজন ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য হয়ে উঠুক একটি সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকার।

 

এ সময় বিশিষ্ট সমাজ সেবক দীন ময় রোয়াজা,সমাজ সেবক রত্ন কান্তি রোয়াজা, রেভিলিয়াম রোয়াজা সহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

Related Articles

Back to top button