খাগড়াছড়িপার্বত্য অঞ্চল

খাগড়াছড়িতে বৈসু–সাংগ্রাইং–বিজু উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র‍্যালি

উৎসবের রঙে মুখর জেলা শহর

স্টাফ রিপোর্টার, খাগড়াছড়ি:
পার্বত্য অঞ্চলের পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর প্রধান সামাজিক উৎসব বৈসু, সাংগ্রাইং, বিজু, পাতা ও বাংলা নববর্ষকে ঘিরে খাগড়াছড়িতে আয়োজন করা হয়েছে এক বর্ণাঢ্য র‍্যালি। উৎসবমুখর এ আয়োজনে প্রাণ ফিরে পেয়েছে পুরো জেলা শহর।

মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) সকালে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ প্রাঙ্গণ থেকে বেলুন উড়িয়ে র‍্যালির উদ্বোধন করা হয়। র‍্যালিটি শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে শাপলা চত্বর ঘুরে পৌর টাউন হলে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে অনুষ্ঠিত হয় পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্যবাহী মনোমুগ্ধকর ডিসপ্লে এবং ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী গরিয়া নৃত্য।

জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শেফালিকা ত্রিপুরার সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি প্রধান অতিথি হিসেবে যুক্ত হন খাগড়াছড়ি-২৯৮ আসনের সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভূঁইয়া।

ত্রিপুরা, চাকমা ও মারমা সহ পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর শতবর্ষের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির ধারক এই উৎসবগুলো প্রতি বছরই বয়ে আনে আনন্দ ও সম্প্রীতির বার্তা। বৈসু, সাংগ্রাইং, বিজু ও পাতা উৎসবের বর্ণিল আবহে মুখর হয়ে ওঠে পুরো পাহাড়ি জনপদ। এ ধারাবাহিকতায় খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদ ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট যৌথভাবে আয়োজন করে এ কর্মসূচি।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নোমান হোসেন, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক ও পৌর প্রশাসক সাজিয়া তাহের, জেলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আব্দুল্লাহ আল মাহফুজ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) মো. শাহাদাৎ হোসেনসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

র‍্যালিতে ত্রিপুরা, চাকমা ও মারমা সহ বিভিন্ন সম্প্রদায়ের শত শত নারী-পুরুষ অংশ নেন নিজেদের ঐতিহ্যবাহী বর্ণিল পোশাকে। তাদের উপস্থিতিতে পুরো শহর যেন রঙ, সংস্কৃতি ও আনন্দের এক জীবন্ত মেলায় পরিণত হয়।

এই আয়োজন শুধু একটি উৎসব নয়; বরং পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর ঐক্য, সম্প্রীতি ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের এক উজ্জ্বল প্রতিচ্ছবি—যা প্রতি বছর নতুন করে প্রাণ জাগায় খাগড়াছড়ির মানুষের মনে।

Related Articles

Back to top button