খাগড়াছড়িপার্বত্য অঞ্চল

খাগড়াছড়িতে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে তামাক চাষ

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি:‎
‎পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ি-এর বিভিন্ন উপজেলায় দিন দিন আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে তামাক পাতা চাষ। বিশেষ করে মাটিরাঙ্গা দিঘীনালা উপজেলায় এ প্রবণতা সবচেয়ে বেশি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। একসময় যেখানে বিস্তীর্ণ জমিতে মৌসুমি শাক-সবজি, ধান ও অন্যান্য ফসলের আবাদ হতো, বর্তমানে সেই জমিগুলোর বড় অংশই দখল করে নিয়েছে তামাক ক্ষেত।

 


দিঘীনালার ‎স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল বাতেন জানান, দীর্ঘ কয়েক বছর যাবৎ তামাক চাষের ফলে বছর শীতকালীন সবজি যেমন বাঁধাকপি, ফুলকপি, টমেটো, বেগুনসহ বিভিন্ন ধরনের ফসল ব্যাপক হচ্ছে। এতে করে স্থানীয়দের মৌসুমী সব্জী ও ফলের চাহিদা থেকেই যায়।এক সময় খাগড়াছড়ি থেকে বিভিন্ন সবজি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করা হতো। কিন্তু বর্তমানে তামাক চাষ বাড়ার ফলে সবজির আবাদ কমে যাওয়ায় স্থানীয় বাজারে বাহির থেকে সবজির আনতে হয়। ফলে এখন প্রতিদিনের প্রয়োজনীয় সবজির প্রভাব পড়ছে বাজারদরে।

 

‎কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তামাক চাষের প্রতি তাদের ঝুঁকে পড়ার পেছনে রয়েছে আর্থিক লাভের বিষয়টি। তামাক চাষে উৎপাদন খরচ তুলনামূলক কম হলেও লাভ বেশি। তাছাড়া তামাক কোম্পানিগুলো আগাম চুক্তির মাধ্যমে চাষিদের বীজ, সার, কীটনাশক ও কারিগরি সহায়তা দিয়ে থাকে। এতে করে কৃষকদের ঝুঁকি কম থাকে এবং তারা নিশ্চিত বাজার পান। ফলে অনেক কৃষকই প্রচলিত সবজি চাষ ছেড়ে তামাক চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন।‎মাটিরাঙা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ শাহাবুদ্দিন আহমেদ বলেন, তামাক চাষ স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং মাটির গুনাগুন নষ্ট হওয়ার কারণে কৃষকদেরকে তামাক চাষে নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে। সেই সাথে তামাকের পরিবর্তে ভুট্টা ও সরিষা চাষে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে মাটিরাঙ্গা উপজেলা ৬৮ থেকে ৭৫ হেক্টর জমিতে তামাক চাষ হচ্ছে।

 


‎এদিকে স্থানীয় বাজার ব্যবস্থায়ও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। সবজির উৎপাদন কমে যাওয়ায় দাম বাড়ছে, যা সাধারণ ভোক্তাদের জন্য বাড়তি চাপ তৈরি করছে। এক সময় যেসব সবজি এখান থেকে দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হতো, এখন সেগুলোই বাইরে থেকে এনে চাহিদা মেটাতে হচ্ছে—যা এই অঞ্চলের কৃষি ব্যবস্থার পরিবর্তনের একটি স্পষ্ট চিত্র তুলে ধরে।

 


‎স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, পরিকল্পিত উদ্যোগের মাধ্যমে যদি কৃষকদের পুনরায় সবজি ও খাদ্যশস্য চাষে ফিরিয়ে আনা যায়, তবে এই অঞ্চলের কৃষি ভারসাম্য রক্ষা করা সম্ভব হবে এবং একই সঙ্গে জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশও সুরক্ষিত থাকবে।

Related Articles

Back to top button