আধিপত্য বিস্তার ও অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের জেরে হামলা—এলাকায় চরম উদ্বেগ

নিজস্ব প্রতিনিধি, খাগড়াছড়ি:
পার্বত্য খাগড়াছড়ি জেলার পানছড়ি উপজেলাতে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ইউপিডিএফ (গণতান্ত্রিক)-এর এক শীর্ষ নেতাকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে।
শুক্রবার (২৭ মার্চ ২০২৬) সকালে উপজেলার উল্টাছড়ি ইউনিয়ন এর মানিক্যপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত নীতিদত্ত চাকমা (৫৮) ইউপিডিএফ (গণতান্ত্রিক)-এর পানছড়ি উপজেলা সংগঠক।
স্থানীয় ও দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে মানিক্যপাড়ার একটি চায়ের দোকানে বসে বৈসাবি মেলা নিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে আলোচনা করছিলেন নীতিদত্ত চাকমা। এ সময় মুখোশধারী দুর্বৃত্তরা তিনটি মোটরসাইকেলে এসে তাকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি চালায়। গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর হামলাকারীরা দ্রুত রাবার ড্যাম এলাকার দিকে পালিয়ে যায়।
সূত্র মতে, পূর্ব শত্রুতা ও অভ্যন্তরীণ আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এ হামলার ঘটনা ঘটেছে। হামলাকারীরা ইউপিডিএফ (মূল) দলের সদস্য হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
গুলিবিদ্ধ অবস্থায় গুরুতর আহত নীতিদত্ত চাকমাকে স্থানীয়রা দ্রুত উদ্ধার করে প্রথমে পানছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। পরে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য খাগড়াছড়ি শহরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত নীতিদত্ত চাকমা পানছড়ি উপজেলার লতিবান ইউনিয়নের বাসিন্দা বর্ন চাকমার ছেলে। বর্তমানে তিনি উল্টাছড়ি ইউনিয়নের সূতকর্মা পাড়ায় বসবাস করতেন।
স্থানীয়দের দাবি, পার্বত্য চট্টগ্রামে সক্রিয় আঞ্চলিক সংগঠনগুলোর অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের কারণে সাম্প্রতিক সময়ে সশস্ত্র হামলার ঘটনা বেড়েছে। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
ঘটনার পর এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে।
ইউপিডিএফ (গণতান্ত্রিক)-এর কেন্দ্রীয় সভাপতি সমীরণ চাকমা তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া না জানিয়ে বলেন, এ বিষয়ে শিগগিরই সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিস্তারিত জানানো হবে।
পানছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ফেরদৌস ওয়াহিদ জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে নিরাপত্তা বাহিনী পৌঁছেছে। এখনো কোনো অভিযোগ দায়ের হয়নি। মরদেহ খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালে রয়েছে। মামলা হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




