
ডলার সংকট, আমদানি নির্ভরতা, বাজারে আগুন—
এই সংকট নতুন নয়, আমাদের ভুলগুলো পুরোনো।
এক নেতা আগেই সতর্ক করেছিলেন—
“পরনির্ভরশীলতা সার্বভৌমত্বকে দুর্বল করে।”
রফতানি, ক্ষুদ্র শিল্প, উৎপাদন—
এটাই ছিল জিয়ার অর্থনীতির মেরুদণ্ড।
স্বনির্ভরতার অর্থনীতি | পর্ব–৩
আজকের বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা কোথায়?—অতিরিক্ত আমদানি নির্ভরতা। ডাল, তেল, পেঁয়াজ থেকে শুরু করে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের জন্য আমাদের বিদেশের দিকে তাকিয়ে থাকতে হয়। ডলার সংকটে এলসি বন্ধ হয়, বাজারে আগুন লাগে।
এই জায়গাটাতেই জিয়াউর রহমান সবচেয়ে বেশি শঙ্কিত ছিলেন। তার দর্শন ছিল—বিদেশের ওপর অতিনির্ভরতা জাতীয় সার্বভৌমত্বকে দুর্বল করে। তাই তিনি চেয়েছিলেন বাংলাদেশ হবে রফতানিমুখী ও উৎপাদনভিত্তিক দেশ।
তার সময়েই তৈরি পোশাক শিল্পের বীজ রোপিত হয়। ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে (SME) তিনি জোর দেন, বিসিক শিল্পনগরীগুলোকে সক্রিয় করেন। তার স্বপ্ন ছিল—প্রতিটি থানায় উদ্যোক্তা তৈরি হবে, চাকরি খোঁজার সংস্কৃতি বদলাবে।
নারীর ক্ষমতায়নেও তার ভূমিকা ছিল যুগান্তকারী। ঘরে ঘরে সেলাই মেশিন, হস্তশিল্পের প্রসার—এগুলোই আজকের নারী শ্রমশক্তির ভিত্তি।
আজ আমরা মেগা প্রজেক্টের চাকচিক্যে মুগ্ধ, কিন্তু কৃষি ও ক্ষুদ্র শিল্প উপেক্ষিত। উৎপাদনকারীর চেয়ে দালালের কদর বেশি। জিয়ার সেই “উৎপাদন বাড়াও” দর্শনের জায়গায় এসেছে ভোগবাদ।
প্রযুক্তি বদলাতে পারে, কিন্তু ক্ষুধার চরিত্র বদলায় না। জিয়াউর রহমান আমাদের শিখিয়েছিলেন—উন্নয়ন ঋণে কেনা যায়, কিন্তু আত্মমর্যাদা কেবল উৎপাদন দিয়েই অর্জন করতে হয়। সময় এসেছে আবার মাটির কাছে ফেরার, আবার স্বনির্ভরতার পথে হাঁটার।
লেখক : মোঃ সহিদুল ইসলাম সুমন, অর্থনীতি বিশ্লেষক, কলামিস্ট ও সদস্য, খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ।
Email : msislam.sumon@gmail.com




