Breakingশিক্ষা / চিকিৎসাসারাদেশ

আখাউড়ায় কলেরা স্যালাইন সঙ্কট, দুর্ভোগে রোগীরা

চেঙ্গী দর্পন প্রতিবেদক , আখাউড়া (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) থেকে : ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রায় ১৫ দিন ধরে কলেরা স্যালাইনের সংকট থাকায় বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা পাচ্ছে না রোগীরা।


উপজেলার টনকি গ্রামের মোহাজ্জেম হোসেন (৩৫) জানান, গত পাঁচদিন ধরে তিনি ডায়রিয়া রোগে আক্রান্ত। ভালো চিকিৎসায়র জন্য মঙ্গলবার সকালে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়েছেন। ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগীদের জন্য হাসপাতাল থেকে বিনামূল্যে প্রয়োজনীয় কলেরা স্যালাইন দেওয়ার কথা। কিন্তু তা দেওয়া হচ্ছে না। বাধ্য হয়ে বাইরের ঔষধের দোকান থেকে স্যালাইন কিনে এনে চিকিৎসা চলছে।


ডায়রিায় আক্রান্ত হাওয়ায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে পৌরশহরের রাধানগর সাহাপাড়ার একবছর বয়সি শিশু হোজবাকে। তার মামা ইকবাল জানায়, তারা বলছেন হাসপাতালে কোনো ধরনেরে কলেরা স্যালাইন নেই। পরে বাহির থেকে স্যালাইন কিনে এনে দিলে আমার ভাগ্নির চিকিৎসা শুরু হয়।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ওয়ার্ড ইনচার্জ সানজিদা মাহামুদ বলেন, ভর্তিকৃত রোগীর বেশির ভাগই ডায়রিয়া রোগী। বর্তমানে আমাদের এখানে কলেরা স্যালাইনের সঙ্কট রয়েছে। স্যালাইন চলে আসলে এই সঙ্কট কেটে যাবে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ষ্টোরকিপারের দায়িত্বে থাকা অলক সাহা জানান, হাসপাতালে আগত রোগীদের সংখ্যা অনুপাতে একবছরের জন্য ঔষধের চাহিদাপত্র দেওয়া হয়। মূলতঃ সরবরাহ না থাকায় কলেরা স্যালাইন সঙ্কট সৃষ্টি হয়েছে। আবারও চাহিদাপত্র দেওয়া হয়েছে। স্যালাইন আসলে সঙ্কট কেটে যাবে।


উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাঃ শ্যামল কুমার ভৌমিক জানান, হাসপাতালে গড়ে প্রতিদিন ২৫জন ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগী ভর্তি হচ্ছে। গত এক সপ্তাহে অন্তর্বিভাগ-বহির্বিভাগ মিলিয়ে চিকিৎসা নিয়েছে প্রায় ৩০০ জন। আক্রান্ত রোগীদের আবার বেশির ভাগই শিশু এবং বৃদ্ধ। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডায়রিয়া রোগী বেড়ে যাওয়ার কারণে কলেরা স্যালাইন সঙ্কট সৃষ্টি হয়েছে। তবে খাবার স্যালাইনসহ ষ্টোরে অন্যান্য ঔষধ পর্যাপ্ত পরিমাণে রয়েছে।


আখাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার-পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ রাশেদুর রহমান বলেন, আমাদের এখানে ডায়রিয়া রোগীর চিকিৎসার জন্য ব্যবহৃত কলেরা স্যালাইন গত এক সপ্তাহ আগে শেষ হয়ে গেছে। আমরা আইনমন্ত্রী ও স্থানীয় সংসদ সদস্যের একান্ত সচিবের কাছে আমাদের স্যালাইন সঙ্কট ও সমস্যার কথা বলেছি। তিনি তাৎক্ষণিকভাবে এসেনসিয়াল ড্রাগস (ইডিসিএল) ফার্মাসিউটিকাল কোম্পানীকে বলে দিয়েছেন। আশা করি ৩/৪ দিনের মধ্যে কলেরা স্যালাইন আমাদের এখানে চলে আসবে।

Related Articles

Back to top button